সিকিমে অঞ্জনের গান
২০১৯সাল,৩১ জানুয়ারি।
বিকেল ৫টা।
গ্যাংটক, সিকিম।
আমরা ৫বন্ধু।
সারাদিন Tsomgo Lake থেকে ঘুরে এসে খুবই ক্লান্ত। MG Marg এর ক্যাফে রেস্তোরায় ঘুরে ঘুরে পুরোটা সন্ধ্যা পার করে দিলাম; ছবি তুললাম; হাঁটলাম অনেক।
আমাদের Darjeeling - Lamahatta - Sikkim ট্যুরের শেষদিন ছিল ৩১শে ডিসেম্বর,২০১৯ ।সেইদিন ছিল উনিশকে পেরিয়ে ২০২০ কে আমন্ত্রণ জানানোর দিন। সারাশহর ছিল খুব ব্যস্ত। পাহাড়ে দ্রুত রাত নেমে যায়; ব্যস্তবাগীস গ্যাংটকে সেইদিনের রাতটা যেন আরো দ্রুতই নামলো। পরেরদিন সকাল ৭টায় SNT(Sikkim Nationlized Transport) এর বাস ধরতে হবে। যেতে হবে Siliguri; Teesta , Sebok হয়ে। অনেক ইচ্ছে হচ্ছিল, যাতে সিকিমে থেকে যেতে পারি আরো বছরখানেক। ওদের অলিগলি,বন্দর, পাহাড়-পর্বত, সংস্কৃতি, লোক, হেরিটেজ, মনেস্ট্রি, ওয়াইল্ডলাইফ গুলোর সাথে মিশে যেতে মন চাচ্ছিল। কোন মতেই গ্যাংটককে ছেড়ে যেতে মন চাচ্ছিল না।
১লা জানুয়ারি, ২০২০।
সকাল ৭টা।
Rangpo তে ইমিগ্রেশন এর কাজ করতে হবে বলে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম। (Rangpo হলো সিকিমের বর্ডার)। রাতেই কাপড়চোপড়, ব্যাগ রেডি করা ছিল।
সবাই নিচে নামলাম।
হোটেলের নিচেই বাস থামবে।
সূর্যোদয় পরবর্তী হালকা রোদ গাল আর চোখ ছুঁয়ে যাচ্ছিল। কি ভয়ানক সুন্দর এক সকাল। এই মায়াবী শহর ছেড়ে কে যেতে চায়!
বাসে উঠলাম।
ঘুম জড়ানো চোখ। কখন একটু চোখ লেগে গিয়েছে বুঝতে পারিনি। হঠাৎ দেখি Rangpo পৌঁছে গিয়েছি। Rangpo র কাজ শেষ হতে মিনিট বিশেক সময় লাগলো; সেই সুযোগে নাস্তা করে নিলাম। লুচি - সবজি আর সিকিম এর দুধচা।
আবার বাসে উঠে রওনা দিলাম।
তিস্তা পেরিয়ে সেবকের পথে; গন্তব্য শিলিগুড়ি।
কানে হেডফোন।
চোখে সানগ্লাস।
বাসের পেছনের সিট।
গায়ে শীতের কাপড় জড়ানো।
হেডফোনে শুধুই অঞ্জনের গান।
সেই অঞ্জনের গান, যার শত সহস্র কাজের সাথে মিশিয়ে নিয়েছিলাম নিজের জীবনকে। যার গানগুলো শুনে, যার সিনেমা দেখে পাহাড়ের এই শহরগুলোকে চেনা। Karsheong, Kalimpong, Doers, Pangkhabari, Gorumara, Ghoom কে চেনা। পাহাড়কে যে কতভাবে সেলিব্রেট করা যায় এইটা আমি শিখেছি শুধু এবং শুধুমাত্র অঞ্জন দত্তকে দিয়ে।
এই পাঁচদিনের ট্যুরে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় সবসময় আমাদের চারপাশে ঘুরছিল। অঞ্জনের কাঞ্চনজঙ্ঘা, কাঞ্চনমন। যখন Sikkim ছেড়ে চলে আসি সেই পাহাড়কে বলতে চাচ্ছিলাম, “আমি আসবো তোমার পাড়ায়”। সিকিমকে বলতে মন চাচ্ছিল; “আমি আসবো ফিরে তোমার পাড়ায়”। ঐযে সেবক রোডের একপাশে ঘন জঙ্গল আর আরেকপাশে তিস্তা নদী বয়ে চলেছে, তাদেরকে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল, “ফিরে আসবো আমি তোমার পাড়ায়”। সিকিমের সব মনেষ্ট্রি, চার্চ আর গির্জা গুলোকে বলতে চেয়েছিলাম, “তুমি থাকো বা না থাকো তোমার বারান্দায়। আমি আসবো, ফিরে আসবো তোমার পাড়ায়”।
সেইদিন শিলিগুড়ি পৌঁছানো পর্যন্ত,অঞ্জনের গানগুলো আমার হেডফোনে চলছিল। সিকিমের সেই পাহাড়গুলোতে আবার হয়তো ফিরে যাবো; কোন একদিন; কোন একমুহূর্তে; ‘অঞ্জন’কে সাথে নিয়েই।
.

No comments