গাভী বিত্তান্তের পরের বিত্তান্ত (পর্ব ১ /ফর্মা ১)

 গাভী বিত্তান্তের পরের বিত্তান্ত (পর্ব ১ /ফর্মা ১) 

(এই গল্পের সমস্ত চরিত্র কাল্পনিক। বাস্তবের সাথে এর কোন মিল নেই, কেউ যদি মিল খুঁজে পান তাহলে তা অনিচ্ছাকৃত এবং কাকতালীয় ঘটনা মাত্র। This is a work of fiction. Any resemblance to actual persons, living or dead or actual events is purely coincidental)

      “মিথ্যার হতে অসত্য বেশি ভয়ংকর। পাপ বাপকেও ছাড়বে না।”

                     অধ্যায় ১: ষড়যন্ত্রের বলি , দীপাবলি

মদনডাঙ্গা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (MAU) এর Faculty of Animal Husbandry  (পশুপালন অনুষদ) এর Department of Animal Breeding (প্রাণী প্রজনন বিভাগ) এর নিয়োগটা এযাবৎকালের সবথেকে খারাপ নিয়োগ বিবেচিত হয়েছে বলে ক্যাম্পাসের চায়ের কাপে একটা রমরম কথা ভেসে বেড়াচ্ছে।ঘটনা সত্যি। অসৎ, অসাধু ও স্বৈরাচারী কিছু লোকের আতুরঘরে পরিণত হয়েছে ডিপার্টমেন্টটা। গতবার ব্যাচ ১৩ থেকে কাউকেই ভিসি ভাইভা ফেস করতে দেয়া হয়নি। যেমন: দীপাবলির কথা বলি। দীপাবলি ছিল ১৩ ব্যাচের যোগ্য প্রার্থী এবং ১ম। ক্লাসমেট ও শিক্ষকের ষড়যন্ত্র, হিংসা আর অপরাজনীতির স্বীকার হয়ে নিজের শিক্ষকতার স্বপ্ন বিলীন হয়েছে দীপাবলির। যে তিন পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ হয়, তা হলো, লিখিত - ডেমো ক্লাস - ভিসি ভাইভা। গতবার ডেমো ক্লাস অ্যাটেন্ড করেছে ডিপার্টমেন্ট থেকে দুইজন। ভিসি ভাইভা ফেস করতে দেয়া হয়েছিল একজনকে। দীপাবলি Out। এইবার, ১২জন ডেমো ক্লাস জয়েন করে। ভিসি ভাইভার লিস্টে ডিপার্টমেন্ট থেকে শেষ পর্যন্ত ৭জনের নাম পাঠানো হয়। দীপাবলি সেই ৭জনের মধ্যে ছিল না। ভিসি জানতে পারে ব্যাপারটা। লিস্টের ১২নাম্বারে রাখা হয়েছে দীপাবলিকে। তারপর, ১-১২ জনেরই  ভাইভা নেয় সম্মানিত ভিসি সাহেব। ১২জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২নাম্বারে দীপাবলিকে রাখাটা ছিল প্রাণী প্রজনন বিভাগের শিক্ষকদের স্বৈরাচারীতার সবথেকে বড় পরিচয়। ১৩ ব্যাচে ডিপার্টমেন্টের ৬ষ্ঠ হওয়া রুমানাও সেই লিস্টের ১০ম অবস্থানে। প্রাণী প্রজনন বিভাগের শিক্ষকেরা দীপাবলিকে বাদ দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করেছিল এই লিস্ট প্রকাশের সময়। “দীপাবলি কেন ১২নাম্বারে ছিল?” এই প্রশ্নের জবাবে অবশ্য ডিপার্টমেন্টে রটানো হবে যে, দীপাবলি "সরকারবিরোধী, immature, সহনশীল না, প্রেজেন্টেশন পারে না, Straightforward” ইত্যাদি ইত্যাদি। এইগুলো উত্তর দিয়ে প্রাণী প্রজনন বিভাগের পাপীরা সাধু সাজতে চায়; নিজেদের ইমেজও ক্লিয়ার করতে চায়; অথচ তারা যে সাধু না, তা সর্বোপরি ছাত্র-ছাত্রী মহলে সবারই জানা; কিছু কিছু শিক্ষকও তা সম্পর্কে অবগত।

দীপাবলি অসৎ না, অসাধু ছিলনা; দিনের পর দিন ক্লাসমেটদের নামে “বিচিং” করে করে শিক্ষকদের কানে কথা দেয়নি; নিজে "ভিকটিম সেজে” শিক্ষকের কাছে নিজেকে তুলে ধরেনি;  নিজের রিসার্চ পেপারগুলো শিক্ষকের নামে বিলিয়ে দিয়ে চাকরি নেয়ার মত ছোটলোকিটা দীপাবলি করেনাই; প্রতিনিয়ত টিচারকে যেয়ে অন্য স্টুডেন্টের নামে খারাপ কথা বলেনি; যেটা শিক্ষক হওয়ার সবথেকে বড় গুণ বলে প্রমানিত হল এবারের প্রাণী প্রজনন বিভাগের নিয়োগে। এবারের নিয়োগ প্রমাণ করে দিল, টিচার হতে হলে অবশ্যই ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকের কানে ক্লাসমেটের নামে বাজে কথা প্রমাণ করতে হবে। অবশ্য বেশি ইফোর্ট দিতে হয় না; স্যার খুব সহজেই তার লেয়াজু করা ছাত্রছাত্রীর কথা বিশ্বাস করে ফেলে। তবে খুব Continuously and Consistently এই কাজটা করে যেতে হয়েছিল স্যারের নিয়োগ পাওয়া ফেভারিট মুনিয়া তানিমকে(মুতা)। এইগুলো হলো দীপাবলির অযোগ্যতা। 

মুতা ছিল ১৩ব্যাচের প্রচণ্ড হিংসুটে, অসামাজিক আর দুর্দান্ত অসত্যবাদী। হ্যা দুর্দান্ত অসত্যবাদী। মুতার অসত্য কথা বলার দক্ষতায় পিকাসোর কিউবিজমের নিখাঁদ শিল্পচিত্র হার মেনে যেতে বাধ্য। যা ঘটেনি; যা হয়নি; যা হতেও পারে না; তা নিয়েও অসম্ভব ভালোভাবে সাজিয়ে অসত্য বলার গুণ আল্লাহ তায়ালা তাকে দিয়েছে। নিয়মিত নামাজ পড়ে নিজের চরিত্র পরিষ্কার রাখার একটা ব্যর্থ চেষ্টা সে নিয়মিতই করে। আরো একটা ভালো গুণ মুতার ছিল। সে এই অসত্য কথা বলার সময় অঝোরে কেঁদে দিতে পারতো। এক কথায় সত্যজিৎ রায়ের “অসম্ভব ভালো অভিনেত্রী”। পৃথিবীতে এর থেকে ভয়ানক শিল্পকর্ম আর কি হতে পারে! অর্থাৎ পিকাসোর কিউবিজম এর সাথে বেথভান এর সঙ্গীত!

তবে তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো, পৃথিবীর যেকোন জায়গায় নিজেকে ভিকটিম বানিয়ে ফেলতে পারা। Gaslighting নামে একটা থিওরী আছে। ঐযে, ধরেন আপনি আমাকে গালি দিবেন এবং তারপর বাসায় যেয়ে স্ট্যাটাস দিবেন “মানুষকে গালি দেওয়া ঠিক না”। এমন আরকি। (তার Gaslighting এর অজস্র উদাহরণ গল্পের পরবর্তী সংস্করনে আমি উল্লেখ করবো। মুতা দীপাবলীকে ক্লাসরুমের বাইরে বলতো, "জানিস তুই স্যারের থেকে ভালো পড়া বুঝাতে পারিস।” এবং তার কিছুক্ষণ পড়েই স্যারের রুমে যেয়ে বলতো, “স্যার জানেন দীপাবলি বাইরে কি বলে বেড়াচ্ছে? সে নাকি আপনার থেকে ভালো বুঝাতে পারে।” গোবেচারা চেহারার স্যার খুব নিমিষেই তা বিশ্বাস করতো। চার বছরে দীপাবলির দুর্নাম রটানোর জন্য মুতা যতবার স্যারের রুমে গিয়েছে, চার বছরে ব্যকবেঞ্চাররা ততবার ক্লাস ফাঁকি দিয়ে প্রস্রাব করতেও যায়নি।)

ভার্সিটির শুরুর দিকে, ক্লাসের CR পরিবর্তন করতে যেয়ে বসুনিয়া তরিক এর বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিল মুতা। যদিও বসুনিয়া তরিক অনেক মজাদার মানুষ ছিল বলে বিষয়টিকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়নি। মুতার এ্যাজমার সমস্যা ছিল। সবসময় ইনহেলার সাথে নিয়ে ঘুরত। ক্লাস চলাকালীন সময়ে টিচারের করুণা আশা করার উদ্দ্যেশ্যে প্রায়ই ইনহেলার বের করে Puffing করতো। “ফুছফুছ” নাম পড়ে যায় মুতার। ক্লাসের অন্য আরেক মজাদার মানুষ ছিল তোসিন হাসান। ক্যাম্পাসে একদিন মজা করে, তোসিন হাসান মুতাকে “ফুছফুছ” নাম নিয়ে ডেকে উঠে। এ কি করলো তোসিন হাসান! এ যেন নিজের পায়ে কুড়াল মারলো! ও কেন এইনামে মুতাকে ডাকবে- এই মর্মে হ্যারেজমেন্ট এর কেস বানালো মুতা। এই সামান্য এক ঘটনা- যা নিয়ে বন্ধু বন্ধু মজা করাই যেত, কিংবা তোসিনকে বুঝিয়ে বললেই তোসিন আর ডাকতো না; কিন্তু মুতা এতই অসামাজিক যে, “হ্যারেজমেন্ট” এর বিচার দিতে আর তোসিনের ছাত্রত্ব বাতিলের লক্ষ্যে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নবীনা ম্যাডাম এর রুমে চলে গেল। শুধু বিচারতো না, কেঁদে কেঁদে আহাজারি শুরু করলো তোসিন হাসানের নামে। অচিরেই যেন তোসিনের বিচার করা হয় বলে আকুতি মিনুতি করতে লাগলো। ভাগ্যিস নবীনা ম্যাডাম অত গুরুত্ব দেয়নি ব্যাপারটায়। অগত্যা সেদিন তোসিনের ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার সুযোগ ছিল। বসুনিয়া তরিকের মতই তোসিন হাসানও ছিল অত্যন্ত মিশুক আর রসবোধের মানুষ, তাই এসব নিয়ে কেউ কখনোই বাড়াবাড়ি করেনি। মুতার এইসব ছোট্ট ছোট্ট ছোটোলোকিগুলো অনেকবার করেছে। অনেকবার। তার এইসব কর্মকাণ্ডগুলোই প্রমাণ করে যে, সে ক্লাসের ১০০% শতাংশ বন্ধুদেরকে প্রচণ্ড অসম্মান ও ঘৃনা করতো; মানুষকে সম্মান করতে জানতো না; সহমর্মিতার লেশমাত্র তার ভেতরে নাই; এবং সুযোগ পাওয়া মাত্রই সে যে কোন মানুষেরই ক্ষতি করে বসতে পারে। মুতা সম্প্রতি বান্ধবী জয়িতার বিয়েতে ক্লাসমেট শাহরিয়ার আর আফিককেও অপমান করে বসে। সেই ঘটনা অন্যদিন বলব। মানুষকে অপমান করাটা মুতার ভেতরে এতটাই অর্গানিক ভাবে আছে যে, সে চলনে বলনে যে কাউকেই অপমান করে ফেলে। 

অন্যদিকে দীপাবলি ছিল এর পুরো বিপরীত। ধৈর্য ধরতে পারত। নিজের অবস্থান ছেড়ে অন্যকে সুযোগ করে দিতে পারতো। অন্যদের সাথে মিশতে পারত। সামাজিক ছিল। সত্যবাদী ছিল। কারোর সাথে অতো সাত পাঁচ ঝামেলায় যেত না। অন্যকে সম্মান করতো। এমনকি নিজের করা হ্যান্ডনোটগুলোও ক্লাসের সবাইকে দিয়ে দিতে কুণ্ঠিত বোধ করতো না। যেই ক্লাসরুমটাতে সামান্য একটা টার্মপেপার টিম তৈরি করতে লাঞ্ছনার স্বীকার হতে হয় ক্লাসের ব্যকবেঞ্চারদের, সেই হৃদয়হীন রুমে দীপাবলির মত একজন প্রথম সারির শিক্ষার্থী তার নিজের নোটখাতাগুলো ছেড়ে দিতো নির্দ্বিধায়। 

সেকেন্ড ইয়ার চলাকালীন সময় পর্যন্ত দীপাবলির সাথে কোন কিছুতেই পেরে উঠতে পারছিলনা মুতা। প্রতিনিয়ত হিংসার আগুনে ফেটে পড়তে থাকে।বন্ধুদের কাছে বাজে কথা রটিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও দুই একবার করে। মুতা জায়নামাজে বসে দোয়া করতে থাকে, আল্লাহ যেন অচিরেই দীপাবলির ধ্বংস বয়ে আনে। দোয়া করে; যেন মুতাকে প্রাণী প্রজনন বিভাগের সুমহান মর্যাদা দান করে। কিন্তু, নিজের মিথ্যাবাদী চরিত্র ও অসামাজিকতার দরুন সে ক্লাসেও তেমন সুবিধা করতে পারেনি। সে আর সহ্য করতে পারছিল না। অনুভব করতে শুরু করলো, নিজের ভেতরে হিংসার লক্ষ-নিযুত-কোটি পিপঁড়া যেন তাকে তিলে তিলে কামড়ানো শুরু করে দিয়েছে। দীপাবলির অনিষ্ট না ঘটালে সেই পিপঁড়া মরবে না। মুতা ঘুমাতে পারে না। রাগে; দুঃখে মুতার বুক ফেটে গোঙানি আসে। যেভাবেই হোক, দীপাবলি যেন ফার্স্ট না হয়, দীপাবলি যেন মদনডাঙ্গা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক না হতে পারে এর জন্য সকাল বিকেল মান্নত করতে শুরু করলো। কুটবুদ্ধি পাকালো, যদি টিচারদেরকে বিশ্বাস করানো যায়, দীপাবলি খারাপ ও ক্ষতিকারক তাহলে অবশ্যই টিচার হওয়ার জন্য মুতার রাস্তা আরামের পুলসিরাত হয়ে যাবে। কিন্তু মুতা শত চেষ্টা করেও দীপাবলিকে কোন শিক্ষকের সামনে ছোট করতে পারছিল না। মুতা সুযোগ খুজতে থাকলো কিভাবে, কি করে, কখন দীপাবলিকে অসম্মান করা যায়। নবীনা ম্যাম, নুরুন্নবী অয়ন স্যারের কাছে যেয়ে কথা লাগানোর অনেকগুলো ব্যর্থ চেষ্টাও করে। কিন্তু উনারা কানেই তুলে না মুতার প্যাঁচগুলোকে। মুতা জ্বলতে থাকে; পুড়তে থাকে; দিশাহীন নাবিকের মত এপার ওপার ঘুরতে থাকে। মুতার ভেতরে দীপাবলির প্রতি হিংসার রেষ যেন প্রতিনিয়ত ওকে ঝড়ের কবলে ফেলে দিচ্ছে; যেন অতলে তলিয়ে যাচ্ছিল মুতা। অতঃপর এই ঝড়ে, অতল সাগরে, ঠাই হিসেবে মুতা যেনো একদিন এক ভাঙ্গা ডাল ধরতে পায়। সেই ডালের নাম হল ড.খন্দকার মুশতাক( খ মু ) স্যার। খমু স্যারের সাথেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে দীপাবলির বলি দিতে উদ্যত হয় মুতা।

দীপাবলীরা যখন দ্বিতীয়বর্ষে, তখন প্রাণী প্রজনন বিভাগের নতুন এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ পায় ড.মুশতাক স্যার। খমু স্যার হল পক্ষপাতদুষ্টতার আলোকবর্তিকা; লেজুড়বৃত্তিতার পতাকাবাহক। স্যার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। ইসলামের কথা বলে; মানুষকে ধর্মের কথা বলে; ছাত্রছাত্রীদেরকে নামাজ কায়েম করার উপদেশ দেন; দ্বীনের পথে আসতে আহ্বান করে; জায়নামাজে বসে আল্লাহর কাছে তার এই জীবনের জন্য শুকরিয়া আদায় করে। স্যার মোনাজাতে বসে তার এই অতর্কিত সাফল্যর জন্য ঠুকরে ঠুকরে কেঁদে উঠে। সবাইকে সৎভাবে চলতে নির্দেশ করলেও মুশতাক স্যার প্রায়ই কলিগ বা শিক্ষার্থীর রিসার্চ টপিক চুরি করতেও লজ্জিত বোধ করেনা। রিসার্চ টপিক নাড়াচাড়া করে ভার্সিটি থেকে টাকা বাগিয়ে নেওয়ার কিঞ্চিৎ অভ্যাসও তার রয়েছে। স্যারের বদঅভ্যাস হল খুচরা আর্টিকেল প্রকাশ করা। প্রতিমাসে নাম না জানা বিভিন্ন জার্নালে নিজের স্টুডেন্টের রিসার্চ টপিক/পেপার নিয়ে আর্টিকেল প্রকাশ করাটাই তার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। MAU এর সেন্ট্রাল ফান্ডিং থেকে নিজের এবং তুনায়েদ স্যারের নামে বিপুল অর্থও আত্মসাৎ করে সে। এই পুকুর চুরির ভাগ অবশ্য তুনায়েদ স্যারকেও দেয়। ভার্সিটিতে আসার কিছুদিনের মধ্যেই খমু স্যারের মাথায় খুচরা আর্টিকেল প্রকাশ করার ভুত এমনভাবেই চেপে বসে যে, রাতে বাসায় ফিরে আয়নায় নিজেকে গাভীন গরুর সাথে তুলনা করে ঈর্ষানিত্ব বোধ করে। গাভীন গরু যেমন পেটের অনাগত বাছুরের জন্য গর্ববোধ করে, অনাগত রিসার্চ টপিকের টাকার খুশিতে মুশতাক স্যারের বুকও গর্বে ঠিক একইরকম ভরে উঠে। স্যারের ঠোঁট ভিজে যায় টাকার লোভে। গাভীন গরুর মত জিহ্বা দিয়ে ঠোঁটের সেই ভেজা জল চুষে নেয় সে। কচকচা নতুন টাকার শব্দে তার লোভের রস ফিনকি দিতে থাকে। রিসার্চ টপিক, পেপার চুরি, ফান্ডিং চুরি করে আরো আরো টাকার স্বপ্নে সে এতটাই বিভোর হয়ে যায় যে, নিজের চর্বিওয়ালা সুন্দরী বউ এর দিকেও তাকানো বাদ দেয়। বউ যখন পাশ ফিরিয়ে বুক উচীয়ে ঘুমায়, খমু স্যার তখন স্বপ্নে গাভীন গরুর ওলানে হাত দিয়ে স্বর্গসুখ নেয়। সারাদিনরাত শুধু কামনা করে কিভাবে তার মতো আরো কিছু লোভী মানুষ একসাথে হতে পারবে, আরো কিছু গাভীন মানুষ তার দলে ভিড়বে, তারপর আরো বাছুর পয়দা হবে, তারপর আরো টাকা হবে। সেই টাকা দিয়ে গরুর পাহাড় কিনবে সে একদিন। সে পাহাড়ে থাকবে শুধুই গাভীন গরু। প্রতিবছর বাছুর বিক্রি করে সে হবে সেই পাহাড়ের একচ্ছত্র রাজা। স্বপ্ন দেখতে থাকে, ধীরে ধীরে একদিন সে এই প্রাণী প্রজনন বিভাগের নাম পরিবর্তন করে বাছুর প্রজনন বিভাগ করে দিবে। তখন ১০০টা বাছুর থাকবে ডিপার্টমেন্টের। ডিপার্টমেন্টের বাইরের ফাঁকা মাঠেই হবে গোচারণ ভূমি। শিক্ষার্থীরা আসবে আর তার বাছুর চড়াবে, বাছুরকে খেতে দিবে। আহা! এই স্বপ্নের খুশিতে তার দাতে খিল ধরে যায়। কিন্তু এত সুখ অর্জনে তাকে সাহায্য করবে কে? এমন কেউ কি আছে যে তাকে এই স্বপ্ন হাসিল করতে এগিয়ে আসবে!

                    To be continued..... পরবর্তী অধ্যায়:

1. খিরিনি রায়ের (খিরা) বিদেশ ভ্রমণ (শুক্রবার, ১৩ই অক্টোবর ২০২৩)

2. খমু স্যারের অর্ধাঙ্গী: গাভীন গরু (শুক্রবার, ৩রা নভেম্বর ২০২৩)

3. দীপাবলির আলোছড়ি (শুক্রবার, ১০ই নভেম্বর ২০২৩)

4. পাগলা শাহীন, সামলা শাহীন (শুক্রবার, ২৪শে নভেম্বর ২০২৩)

5. শেয়ালবাবা তুনায়েদ খান  (শুক্রবার, ১লা ডিসেম্বর ২০২৩)

6. একতাই বল, মুতার কূটকৌশল

7. হোসাদ্দেম গোসাদ্দেম  (হোগো)

8. রাবিন রায়হান (রারা) এখন চামচামির চমচম    

এরপরে একদিন ভাটোয়ারি তুনায়েদ খান (ভাতখা) স্যার সম্পর্কে বলব। উনি ছিল দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা ছাত্র; নব্য শিক্ষক। যখন উনি বোর্ডের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে পড়া পড়াতো, তখনও উনার গা দিয়ে ভোস ভোস করে সদ্য গ্র্যাজুয়েশনের গন্ধ আসতো। খুবই গর্দভ আর গাধা মানুষ ছিল। ততটা পরিমাণ গর্দভ আর গাধা যে, সে নিজেকে চরম চালাক ভাবত। এতটাই গর্দভ কিসিমের মানুষ যে, মুতার রিসার্চ টপিক নিয়ে ফান্ডিং পেয়েছিল বিধায় দীপাবলিকে একবার ক্লাসে বলেই বসে, “ক্লাসের লাস্ট ব্যক্তিও তোমার থেকে ভালো।” এই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী লোকটা কখনোই আঁচ করতে পারবেনা, তাদের করা ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করেও যে মেয়ে বারংবার প্রথম হয়েছিল ওই ক্লাসে তার সাথে ক্লাসের কেন, কোন যুগের-কোন সময়ের-কোন মানুষের তুলনা হবেনা। কারণ তাদের কয়েকজনের হাজার চেষ্টা তাকে হারিয়ে দিতে পারেনি। অতঃপর কিছু না পেরে চোরামির পথ অবলম্বন করতে হয়েছিল তাদের। এই শেয়ালবাবার ঘটনা অনেক বিস্তারিত পাওয়া যাবে সামনে।

                                                      পরিশিষ্ট 

(উপন্যাসের বাকি এই ঘটনাগুলো পরবর্তী সংখ্যাগুলোতে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে)

[ দুর্নীতি বা দুষ্ট নীতি তো শুধু নিয়োগে হয়না, দুষ্টনীতি হয় গোড়া থেকেই।

আজকের নিয়োগ দুর্নীতি তো শুধু আজকের ঘটনা না, এইটা হলো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকের করা ছোট ছোট ছোটলোকি গুলোর বহিঃপ্রকাশ। থিসিস ডিফেন্স এর সময়, তার প্রিয় স্টুডেন্ট R language না পারা সত্বেও চেয়ারম্যানকে নির্দ্বিধায় বলে দেয়, “না সে পারে”। আবার একইরকমভাবে ক্লাসের পেছনের সারির এক ছাত্রের সুন্দর টার্ম পেপার/ প্রেজেন্টেশন/ থিসিস কে তুলোধুনা করতে ব্যস্ত হয়ে যেত খমু স্যার। এইটা হলো দুর্নীতি বা দুষ্ট নীতি। জুনিয়রদের ডেটা সিনিয়র কে দিয়ে দেয়াটা হলো দুষ্ট নীতি। স্টুডেন্ট এর রিসার্চ পেপার নিজের নামে করে নেয়াটা দুষ্ট নীতি। 

সবার টার্ম পেপার এর লাস্ট ডেট ১২ মে, আর মুতার টার্ম পেপার নেওয়া হয় ১২জুন। থার্ড ইয়ারে স্যারের সকাল ক্লাস ছিল সাড়ে ৮টায়। মুতা ক্লাসে আসতো নয়টায় অথবা পৌনে নয়টায়। মুতা ক্লাসে ঢুকার পরে স্যার এটেন্ডেন্স নিতো। স্যার এতটাই নির্লজ্জ ছিলো যে এইটাও বুঝতো না, এই ছোট্ট একটা ইভেন্ট এর মধ্য দিয়েই সে ক্লাসের অন্য ৫০ জন শিক্ষার্থীদের অপমান করছে। ]

No comments

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.