অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।”
৫ লাখ লোকের জীবিকা; ৬০ হাজার কর্মচারীর; বিশ্বের সর্ববৃহৎ পাটকল “আদমজী জুট মিল” বন্ধ হয়ে যাওয়ার আসল কারণ কি ছিল জানেন?
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, ব্যর্থতা, অসদুপায় ও অযোগ্যদের জায়গা করে দেওয়া। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি হওয়ায় কিভাবে লস হলো? কিভাবে বন্ধ হলো আদমজী?
.
BJMC দায়িত্ব নেওয়ার পরে আদমজী জুট মিলে অব্যবস্থাপনা দেখা দেয়। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি শ্রমিক নিয়োগ; অযোগ্য- অদক্ষ কর্মী; কর্মচারী; ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়োগ পায়। প্রথমত, বেশিরভাগই অযোগ্য এবং দুর্নীতিবাজ; দ্বিতীয়ত, এতবেশি শ্রমিক ও কর্মকর্তা নিয়ন্ত্রন করা যেকোন প্রতিষ্ঠানের জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার। শ্রমিক ও কর্মচারীদের প্রতিনিয়ত কাজে ফাঁকি দেয়া; অনুপস্থিত থাকার কারণে একসময় উৎপাদনে শীর্ষে থাকা বিশ্বের সবথেকে বড় এই পাটকলটি বছর বছর মুনাফা হারানো শুরু করে। নিয়োগের দুর্নীতি হওয়ার পাশাপশি জুটমিলে চৌর্যবৃত্তিও বেড়ে যায়। কর্মচারী কর্মকর্তারা জুটমিলের যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে বাইরে বিক্রি করে দেয়। যার ফলে মিলের মেশিনগুলো বছরের বেশিরভাগ সময় অকেজো ও বন্ধ থাকতে শুরু করে। উৎপাদন কমতে থাকে; সরকারও লস গুনতে থাকে। নিয়োগে অযোগ্য লোকগুলোকে স্থান দেয়ায় পাটমিলের গুণগত মান কমে যায়; বাংলাদেশ বৈদেশিক আকর্ষণ হারাতে থাকে। স্বজনপ্রীতিতে ঢোকা লোকগুলোর কারণে আরো কিছু সমস্যা দেখা দেয়। মিল প্রতিবছর নিম্নমানের পাটগুলো কিনতে শুরু করে; এবং পাটচাষীরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। যা পরবর্তীতে চাষীদেরকে গুণগত ও সঠিক পাটচাষ করা থেকে অনাগ্রহী করে তুলে। এছাড়াও বলার মত আরো কিছু বড় কারন আছে; ১)বহির্বিশ্বের সাথে কম্পিটিশন এ হেরে যাওয়া; ২)ক্রিয়েটিভিটির অভাবে নতুন প্রডাক্ট তৈরি না করতে পারা; *পাটজাত পণ্যকে হাইলাইট না করা। ৩) নতুন প্রযুক্তির সাথে খাপ না খেয়ে চলা।
.
এই লেখাটা আমি যখন লিখতেছিলাম তখনই হঠাৎ একটা খবর চোখে পড়লো। FIFA গত পরশুদিন “বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)” এর সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে ৩টি (অর্থচুরি, জালিয়াতি আর দুর্নীতির) কারণ দেখিয়ে দুইবছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) থেকে পাশ করে ইঞ্জিনিয়ার হতে হতে হঠাৎ করেই খেলার মাঠে ক্যারিয়ার গড়তে শুরু করে আবু নাঈম সোহাগ। “BUET থেকে বাফুফে”। আমার মন ফুরেই প্রশ্ন জেগে উঠে “কিভাবে নিয়োগ পায় ইনারা!” এইটা কিন্তু নোলানের INCEPTION এর মতোই এক Unsolved Mystery. অযোগ্যতার নির্মম এক উদাহরণ আরো পরিলক্ষিত হয়েছে যখন জানা যায় যে, উনি (আবু নাঈম সোহাগ) ফিফার “Administration and Management Course” এ পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এছাড়াও রয়েছে অজস্র টাকার গরমিল ও দুর্নীতি করার অভিযোগ। দেশের ফুটবল আজ হাহাকার করে; নাম না জানা দলগুলোর সাথে হেরে যায়; এরা বাংলাদেশ ফুটবল দলটাকে ১৯০+ রেঙ্কিং এ নিয়ে গেছে; সাফজয়ী নারী দলটাকেও অলিম্পিকের সিলেকশনে পাঠাল না; (টাকার অভাবে) আর কত ভন্ডামি! আবু নাঈম সোহাগরাই হলো নিয়োগ ব্যবস্থায় ভুলভ্রান্তি- অসদুপায়- অযোগ্যতার জলজ্যান্ত প্রমান।
“তোমার ইঙ্গিতে। যেন রাখি তব মান
তোমার বিচারাসনে লয়ে নিজস্থান।
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।”
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
.
যাহোক মোদ্দাকথা হল, হোক সেটা পাটকল; হোক সেটা খেলার মাঠ; হোক সেটা সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ; নিয়োগে ভুলভ্রান্তি, স্বজনপ্রীতি, অসুদপায় ও অযোগ্য লোকদেরকে স্থান করে দিলে এর ভবিষ্যত সবসময়ই অন্ধকারের দিকে চলে যাবে। হবে শুধুই চুরি। জাতি হবে মেধাশূণ্য। সৎ, যোগ্য, নীতিবান, মেধাবীদের জয় হোক।
..
আলোচ্য অংশ যেই সোর্স থেকে নেয়া তা হলো
১) বিজনেস ইন্সপেকশন; আদমজী জুট মিলের পতন।
২) একাত্তর খেলাযোগ।
(ভিডিও লিংকগুলো কমেন্ট বক্সে আছে)

No comments