মাওয়া-কাঠালবাড়ি। (2017)
নয়াবাজারে ব্রিজের রেলিং এর উপরে চারজন যুবক বসে আছি গাড়ির অপেক্ষায়। ঘড়ির কাটা সাড়ে এগারোটা থেকে গড়িয়ে বারোটার ঘরে আগাচ্ছে।রাস্তায় জ্যাম। মাওয়ার গাড়ির কোন হদিস নাই।
`≠`
তাজের বুদ্ধি: মামা চল ট্রাকে উঠি? যেকোন এক হেলপার কে প্যাকেজ করি?
.
এত রাতে মুন্সিগঞ্জের ট্রাক পাওয়া যাবে না । সব আরমানিটোলা আর কদমতলির ট্রাক। আমি বললাম, অপেক্ষা কর।বাস আসবে। মাওয়ার লাস্ট গাড়িও রাত ১ টায়।
.
আমার এই কথার পর তাজ কিছুটা আশাহত হইলো।(ট্রাকের ছাদের প্লান টা নস্ট হয়ে গেলো ওর) অনেক্ষন অপেক্ষা করলাম। তারপর আমার নিজেরো অপেক্ষার বাধ ভেংগে গেলো। চারজন মিলে তাতিবাজারের দিকে হাটা শুরু করলাম। ইতোমধ্যে তাজ দুই এক ট্রাক ড্রাইভারকে অলরেডি জিজ্ঞাসা করে ফেলছে মাওয়া যাবে কিনা। কিন্তু হতাশ। নো গাড়ি, নো ট্রাক।
.
তাতিবাজারের দিকে হাটতে হাটতে ঠিক যখন মোড়ে এসে দাঁড়াইলাম সাথে সাথেই মাওয়ার বাস হাজির। চেপে উঠলাম গাড়িতে। সিট নাই বলে সোজা ড্রাইভারের সাথে ইঞ্জিনে বসে পড়লাম আমি আর তাজ। এবার ড্রাইভার মামা তার লাইফ হিস্টোরি এক সাইড থেকে বলা শুরু করলো। জমিয়ে আড্ডাটা মেরে দিলাম। কিছুক্ষন পর সিটে এসে বসার পর, তাজের প্লান সে এখন ১০ মিনিট ঘুমিয়ে নিবে। শায়েখ আর আমি, তাজকে ঘুমানোর সুযোগ দেওয়ার তিনমিনিটের মাথায় আমরা মাওয়া ঘাটে।
.
রাত পৌনে দুইটা।
আহসান, শায়েখ,তাজ আর আমি।
সোজা ইলিশের মাঠে।
চলছে ইলিশের দরদাম।
চাঁদপুরের বন্ধু থাকলে ইলিশের বাজার নিয়ে কোন টেনসন নাই।
রুপালি ইলিশ, সোনালি ইলিশ, জাইথন ইলিশ, পাইথন ইলিশ, পদ্মার ইলিশ, ভোলার ইলিশ, আবেগের ইলিশ, আবেগছাড়া ইলিশ।
সকল প্রকার ইলিশের খোঁজখবর চাদপুরের বন্ধুদের কাছে থেকে যায়। বাংলাদেশ ইলিশ গবেষণা কেন্দ্রও চাঁদপুরে। (মিসিং সামি)।
.
ইলিশ হস্তক্ষেপ মিশন শেষ করে এবার পুরোদমে পেটপুজার আয়োজন। বেগুন ভাজি,ইলিশ ভাজি, ডিম, ডাল, ভরতা,ইলিশের তেল। পেটপুজা চুকিয়ে সোজা ফেরিতে উঠবো। আজান হয়ে গেলো। চলে গেলাম একদম ফেরির উপরের তলায়।
.
ফেরির নাম (রাফ এন্ড টাফ) �� বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ফেরি।
রাফ এন্ড টাফ হওয়ার কারণ হল, পুরো ভোর বেলায়, দিনের বেলায় সামনা সামনি সংঘর্ষ ঘটিয়ে দিলো জাহাঙ্গীর। পুরাই টাইটানিক ফিল। জাহাঙ্গীর এর ধাক্কা খেয়ে অন্য ফেরির উত্তর দক্ষিন চেঞ্জ হয়ে গেলেও জাহাঙ্গীর দিব্যি সোজা আগানো শুরু করলো।
.
মাওয়া-কাঠালবাড়ি। (এখন আর কাওড়াকান্দি যায় না, ঘাট সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে আসছে)
পদ্মার বুকে সকাল দেখার মজাটা যে কি বলে বুঝানো সম্ভব না।
চারবন্ধু ফেরির সিলিং এর উপরে বসে গান আর সকাল দেখা। দুটাই দারুন ছিলো। কাঠালবাড়ি নামার পর চরের দিকে চলে গেলাম। আড্ডা আর বিনোদন। ঘাটে ফিরে আসতে আসতেই দেখি জাহাঙ্গীর আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ধরতে পারলাম না।ফেরি ক্যামেলিয়া তে করে মাওয়া আসলাম। শয়তানি বাঁদরামি করছি, সব বলা যায়না ফেসবুকে। মাওয়া বাসস্ট্যান্ডে এসে তাজের উক্তি: রিক্সা ভাড়া করি?
.



























No comments