Rijik








 “ রিযিক বড় অদ্ভুত জিনিস। সারাদিন যাহাই খাওয়া হয় তার সবকিছুই রিযিক নয়।  অন্যের হক মেরে খাওয়া রিযিক নয়; তা চুরি। রিযিক এর জন্য দৌড়াতে হয় না। রিযিক মানুষের জন্য বরাদ্দ; মানুষের কাছে দৌড়ে আসে। রিযিক এর জন্য অন্যকে লাথি মারতে হয়না; রিযিক এর জন্য কলমের খোঁচায় লক্ষ টাকা নিজের একাউন্টে ঢুকিয়ে নিতে হয়না; রিযিক এর জন্য মানুষের রক্ত চুষতে হয়না; রিযিক এর জন্য অন্যের ঘরে শিং মারতে হয়না। রিযিক আল্লাহ তায়ালা পাঠিয়ে দেয়। এর আগেও দিয়েছে; সামনেও দিবে। স্বভাবতভাবেই রিযিক পৌঁছে যায়। আজকাল অনেক মানুষকে দেখি, অন্যকে খাটো করে, অন্যকে অপমান করে, অন্যের ক্ষতি সম্পাদন করে, অন্যের সম্পদ চুরি করে- অঢেল উপার্জন করেন। এবং সেই অর্থে আহার গ্রহণের পর সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে আলহামদুলিল্লাহ/শুকরিয়া জানায়। ইহা রিযিক নহে। ঠিক যেমন, পুঁজিবাদের বায়ুতে, খাদ্যহীন নাগরিকদের জন্য সেমিনার শেষ করে, এক বালতি বুফে খাবার নষ্ট করাটা রিযিক নয়। পৃথিবীর সবকিছুকে রিযিক বলে চালিয়ে দেওয়া যাবেনা। নিষ্ঠুর এই মেট্রো শহরে, না খেয়ে থাকা মানুষগুলোর পেটে আচমকা যখন খাবার চলে আসে, তাহাকে রিযিক বলে। যে মানুষটা সারাদিন পয়সাহীন ভাবে ঘুরে, কিন্তু হঠাৎ কোথা থেকে যেন এক প্লেট ভাত জুটে যায়, তাকে রিযিক বলে। রাতের আঁধারে, খাবারের অভাবে কাদতে থাকা যুবকের কপালে কোন না কোন একদিন হুট করে অজস্র প্লেট খাবার চলে আসাকে রিযিক বলে। অপরাজনীতি/ দুর্নীতি/ লেয়াজু/ স্বজনপ্রীতি/ অন্যায়/ অবিচার/ স্বৈরাচারীতার পয়সায় আয় করা খাবার কখনোই কারোর রিযিক হতে পারেনা।”

-

ফারুক আহমেদ।

পল্লবী, ঢাকা।

(১৬-১১-২০২৩)

No comments

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.