Arif Rayhan Shuvo
আমার প্রথম সিনেমার সংলাপ লেখক,গীতিকার ও সুরকার এর জন্মদিন। আজ থেকে বছরকয়েক আগে অদ্ভুত এবং বিরল কিছু প্রতিভা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল আমার এই বন্ধু। (যত বেশি মিশবেন, তত নতুনভাবে জানতে পারবেন)। শিল্প , সাহিত্য, সমাজ , রাষ্ট্র নিয়ে এমন সুনিপুণ চিন্তাধারার লোক আমাদের সমাজে হাতের আশেপাশে লক্ষ্য করা দুষ্কর। অতএব , আরিফ রায়হান শুভকে যেখানেই পাওয়া যায় না কেন, যতক্ষনই পাওয়া যাক না কেন; শিখে নেওয়ার রয়েছে অনেককিছু। শুভকে দেখে আমি বিভিন্ন দিক থেকে মুগ্ধ হই। কি কি? সেটা হলো, প্রথমত, শুভর গানের প্রতি ভালোবাসা, রুচি ও গবেষণা। আমার জীবনের শোনা ৯০% ভালো গানের Recommender হলো শুভ। ভালো recommender আপনাকে ভালো মানুষ তৈরি হতে সাহায্য করে। ঠিক তেমন মুগ্ধতাও ছড়াতে পারে। দ্বিতীয়ত মুগ্ধতার জায়গা হলো, ওর কম সিনেমা দেখা। হ্যা , কম। ও সিনেমাকে জীবনের সাথে কানেক্ট করতে পারে; কম দেখলেও সেই সিনেমায় নতুন নতুন জীবন খুজে নিতে পারে; দীর্ঘদিন সিনেমার শিক্ষণীয় দিকগুলো মাথায় নিয়ে চলতে পারে। শুভ এমন ৫টা সিনেমা নিয়ে কথা বলতে পারবে যা জীবনে ৫০০বার দেখছে। শুভ হয়ত জানেনা, আমি ওর এই সুন্দর গুণটা, ওর কাছে থেকে চুরি করছি। (আমার ভেতরে শুভর কাছে থেকে চুরি করা অজস্র গুণ আছে)। এইযে সিনেমার দৃষ্টিভঙ্গিতে শুভ মুগ্ধ করে আমাকে। তৃতীয়ত, “responsibility handle” এর জায়গাটায় শুভ দারুনরকম অনুপ্রেরনীয়। ও খুব খুব বেশীরকম মানুষের সংস্পর্শে যেতে পারে।আমি বিশ্বাস করি , এই ‘দায়িত্ব পালন’ দিকের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা ওকে অদ্ভুত এক প্রতিভা দান করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে। ও যেভাবে যতজন মানুষের সাথে মিশতে পারে, এমন খুব কম মানুষ পারে আর কম মানুষের ভাগ্যেও জোটে। চতুর্থত, শুভর সাহিত্যজ্ঞ্যান, শব্দচয়ন, লেখনী, কবিতা অন্যরকম একটা ফ্লেভার বা স্বাদ দেয় আমাকে। ছফা, সুমন, নচি, অঞ্জন এর মিশ্রণ। ভালো মিশ্রণ। পঞ্চমত, ওর খাবারের প্রতি যে সুবিচার।পৃথিবীর, জাগতিক সব ক্রিয়েটিভ মানুষেরা ছিল খাবারের প্রতি অতি আগ্রহী এবং ভালো পরিমাণ তাত্ত্বিক। খাবার খাওয়া ও রান্না করা দুইটাতেই হাত রাখতো ভালো। শুভ ও এর ব্যতিক্রম নয়। ষষ্ঠত, মানুষের জীবনকে observe করা বা পর্যবেক্ষণ করার যে মহৎ গুন ওর মধ্যে আছে তা খুব স্বভাবতই আপনাকে মুগ্ধ করবে; আমাকে করে। সম্প্রতি, মাসখানেক আগে, এক বন্ধুকে নিয়ে ওর পর্যবেক্ষণমূলক লেখা পড়ে চোখের কোনে চিকচিক করে উঠেছিল। এবং কিছুদিন আগেও, গভীর রাতে; শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়ে বসে যখন শুভর অন্তর্দৃষ্টি থেকে কয়েকজন মানুষের জীবনপরিক্রমা পর্যবেক্ষণ করলাম, আর ও যেভাবে সবগুলো চরিত্রকে একই সূত্রে মালা গেথে তুললো, ঠিক সেদিনও চোখের কোনে পানি জমেছিল। কি পারে এই মানুষটা! Having A Friend like Arif Rayhan Shuvo is a privilege. Knowing Arif Rayhan Shuvo is a privilege. Arif Rayhan Shuvo is privilege to know. সপ্তমত, অস্টমত, নবমত, আরো আরো আরো আমি বলতে পারবো। এইগুলো তো হবে শুধু ওর কাছে থেকে কতরকমভাবে মুগ্ধ হই, শুধু তাই; কিন্তু আরিফ রায়হান শুভ’ যে আমার জীবনে কত ইম্প্যাকটফুল একটা চরিত্র আর কিভাবে কানেকটেড এইগুলো নিয়ে আরো কয়েকপাতা লিখা যাবে। আমার অর্থনৈতিক দুরবস্থার দিনগুলোতে শুভর কাছে টাকা নিয়ে ভার্সিটির ভর্তির ফর্ম তুলেছিলাম। (পাস করেছি ওই ভার্সিটি থেকেই)। ২০১৫ সালে একসাথে থাকতাম, সলিমুল্লাহ রোডে। আয়হায়, এখন আবার মোহাম্মদপুরের চ্যাপ্টার এর কথা মনে পড়লো। শুভ পড়ত রেসিডেনসিয়াল এ, থাকত সলিমুল্লাহ রোডে, তাজমহল রোডে। আমি থাকতাম কুইন্সের কারাগারে। এই মোহাম্মদপুর থেকেই শুভর সাথে সখ্যতা বৃদ্ধির বীজ বপন হয়েছিল। থাক, বন্ধুত্বের কথা পরে। প্রতিভাধর এই মানুষটার প্রতিভা বলেই শেষ হবে না।
এইরকম মানুষ হরহামেশা পাওয়া কঠিন না, স্রেফ অস্বাভাবিক।
শুভ জানেনা, শুনলে খুশি হবে যে, গত দুইদিন থেকে রুপম এর “আমি যাই” শুনতেছিলাম আর গুন গুন করতেছিলাম। হাহা। আমি একটু পরেই ধরতে পারি। শুভ জন্মদিন। তোমার মত বন্ধু পাওয়া সৌভাগ্যের। শেষমেষ একটা গানের লাইন দিয়ে শেষ করা উচিত। Dream Theatre এর Count of Tuscany’ র শেষের কয়েক লাইন। কেন জানিনা, এই লাইনগুলোই মনে পড়তেছে :
“Go and tell the world my story
Tell about my brother
Tell them about me
The Count of Tuscany”
.
Arif Rayhan Shuvo is the “Count”

No comments