My Brother: The Count of Tuscany

 Still Loving You 

.

গান শোনানো, মুভি দেখানো, কথা বলতেই থাকা, ঝগড়া ঝাটি, জোর করে কোথাও নিয়ে যাওয়া, ছবি আঁকা, সিরিজ নিয়ে বকবক করা, ছোট ছোট জিনিস কালেক্ট করা, toys, সুই , সুতা, বাসায় পোস্টার লাগানো, মিনিমালিস্ট জিনিসের ইউজ করা, মানুষকে হেল্প করা, পশুপাখিকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো-- এইগুলো হল নিলয়। 

কারোর উপর অধিকার খাটানো- নিলয় এর কাছে থেকে শিখা উচিত। জীবনের বেশিরভাগ সময় খালি মানুষকে ভালোই বেসে গেছে। কলিজাটা ছিল মাথা থেকে পা পর্যন্ত। শিল্পের প্রতি টান ওয়ালা মানুষ অনেক দেখেছি, নিলয়ের মত অত বড় আত্মার মানুষ বাংলাদেশে কয়টা আছে জানিনা। আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করছে এই ছেলেটা। নিলয় মানুষকে খুব ঋণী করতে পারত। আমাকে যে কতভাবে ঋণী করে গেল শুধু আমি জানি আর আল্লাহ জানে। 

একদিন হুট করে ফোন, "ফারুক, চলো চিটাগং যাই, মামুন আছে শাকিল আছে দেখা করে আসি" বললাম, "টাকা নাই" । জোর করে নিয়ে গেল। জোকার দেখার সময় আমার বামপাশে বসে ছিল, শেষের দিকে দেখি ও নাই, দাঁড়িয়ে গেছে। বললাম, "দাঁড়াইছ কেন?" বলল, "বসে আর নেয়া যাচ্ছেনা"। একাই পুরো ভিডিওটা হোস্ট করলো।

Eternal Sunshine of Spotless Mind, Her খুব পছন্দের মুভি ওর। ল্যাপটপ কিনতে গেলাম নিলয়ের সাথে। কাধেঁ ঝোলানো ব্যাগ দিবে না দোকানদার। ম্যানেজ করে ফেলল। 

জোর করে একবার আমার ল্যাপটপে পুরো একটা গানের ফোল্ডার ঢুকিয়ে দিয়ে বলল , "গানগুলো শুনবা" । পরে অবশ্য ওই ফোল্ডারটা ডিলেট হয়ে গেছিল ওর কাছে থেকে। আমাকে জিজ্ঞাসা করছে "তোমার কাছে আছে কি এখনো? থাকলে আমাকে দিও"। দিতে পারিনি।

বিকালে টিএসসি তে বসে থেকে কি প্লান করলো, স্টোরি কালেক্ট করবে। আমি বললাম, "কই থেকে?" বলে, "চলো" । নিয়ে গেল ঢাকা মেডিকেলের পেছনে। যেয়ে দেখি, একটা কুকুরের ছানা ম্যানহোলে পড়ে গেছে। আর মা কুকুরটা চিৎকার করতেছে। আমাকে বলে, "এইখানে দাঁড়াও, দেখ যাতে বাচ্চাটার কিছু না হয়, আমি আসতেছি"। ৫মিনিট পর ফিরে আসল। হাতে গ্লোভস। বাচ্চাটাকে তুলে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিল। ভার্সিটির শুরুর দিকের ঘটনা, আমি তখন পুরান ঢাকায় থাকি। দুপুরের পরে হঠাৎ ফোন, "চকবাজারে ইফতার করব, চলে আসো"। হাহা, এসে দুমছে খাওয়া দাওয়া করলো। 

আর মানুষের বিপদ, দুঃখ কষ্টগুলোকে নিজের ঘাড়ে নেওয়াটা নিলয় এর একটা রোগ। মানুষকে বিপদে দেখতে পারত না। যদি জানত কেউ হসপিটালে, দৌড়ে চলে যেত। আব্বু তখন অসুস্থ। ২০১৮ সাল। পিজিতে। ও তখন জাপানিজ কোর্স করে ঢাবিতে। আমার সাথে দেখা না করলে ওর হত না। যদি জানতে পারে যে আমি আশেপাশে আছি , দেখা করবেই। একবার শাহবাগের মোড়ে বসে থেকে পুরো সন্ধ্যা, "বাংলা সিনেমার ডেভলপমেন্ট" টপিকে অঝোরে গল্প করে দিলাম। আমার পকেটে টাকা নাই, ও বিল দিত, কোনদিন এই জিনিসগুলোর shame ও ফিল করতে দিবেনা কাউকে। ও উপকার করেনি এমন মানুষ নাই- ওর কাছে থেকে উপকৃত হয়নি এমন মানুষ নাই। প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে ওর বাসায় চলে যেতাম। গল্পের টানে। পকেটে টাকা না নিয়েই। রাতের পর রাত আড্ডা । আমার ভুল হইছে, ওর সাথে থাকার নেশাটা আমার শুরু থেকেই ছিল। আমার এইটা করা উচিত হয়নি। দূরে থাকলেই ভালো হত। আমাকে আজকে এত কষ্ট পেতে হত না। আমি ভালো থাকতাম।প্রথম প্রথম ট্রাইপড কিনলো। সালটা ২০১৭ সম্ভবত। একদিন আমি ওর রুমেই,  "ফারুক এইদিকে আসো, এই দেখো এইটা কিভাবে ওয়ার্ক করাইতে হয়।"  বিকালে। আমি সাজিদ আর নিলয় ছিলাম "চলো তো হাইপারল্যাপ্স ট্রাই করব।" বাঁশবাড়ির রোড এ দাঁড়িয়ে হাইপারল্যাপ্স করলাম।  খুব মিনিমালিস্ট জিনিস কালেক্ট করত নিলয়। কই পাইত জানিনা!একদম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিস। আমাকে একবার একটা বক্স দেখাইলো। দেখি ভেতরে সুই, নেইল কাটার, আরো কি কি যেন। খুব হাসি মুডে বলল, "বলোতো দাম কত?"  প্রায় ৫০টাকার মত জিনিসপত্র ছিল। বললাম, ৫০। বলে, "১০টাকা, শ্যামলী থেকে নিছি।" 

২০১৬সালে। পকেটে টাকা নেই, ঢাকায় থাকার জায়গা নেই। প্রতিদিন রাতে নিলয় এর দরজা খোলা থাকত।

.

একদিন রাতে, নিলয় জোর করে শোনালো, Scorpions এর Still Loving You গানটা। পরে ফোনের মধ্যে Scorpions এর গানগুলো ঢুকিয়ে দিছিলো।  এখনো আছে ঐগুলোই। নিলয়, Still Loving You নিলয়, I am Still Loving You. 

.

Is there really no chance

To start once again?

You should give me a chance

This can't be the end

I am still loving You.

No comments

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.