.
Independent Cinema যে কি জিনিস! Human Existence, Survival Life, Loneliness এর অনন্য উপস্থাপন এই সিনেমাটা। ছবির গল্প শুরু হয় ১৮৮৯ সালের দৃশ্যপটে ইতালির
তুরিন অঞ্চলের এক ঘোড়া কে কেন্দ্র করে। ঝড়ো বাতাসের
মধ্যে বাবা ও মেয়ের জীবনযাপন কেমন হয় তাই নিয়ে আগাতে থাকে সিনেমার গল্প। এই এত টুকুই আর কিছুনা।
.
এতটা ওপেন সোর্স হিসেবে নিজের থিঙ্কিং কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এই সিনেমায় যা কেউ না দেখলে বুঝবে না। সত্যিই দুঃসাহসী ব্যাপার। পুরো সিনেমাটিতে শুধু দর্শককেই ভাবতে হবে। সিনেমার গল্প কি হবে এইটা আপনি নির্ধারণ করবেন। পুরো সিনেমার গল্প আপনার উপরে নির্ভর করে। আপনি যেভাবে দেখতে চান সিনেমাটির গল্পটিও সেভাবে আপনাকে দেখাবে। বুঝুন, কি ভয়ানক কান্ড করে বসেছে Bela Tarr ।
.
এই সিনেমার মেকিং এন্ড থিঙ্কিং প্রসেস এর ডেপথ দেখলে গায়ের লোম শিউরে উঠে। কি অস্বাভাবিক রকমের ইউনিক! বপ্রেহঃ বাপ! ঘন্টাখানেক যাওয়ার পর প্রতিটা শট চোখ বড় বড় করে দেখতে হয়েছে। আর কাস্টিং! মিউজিক! সিনেমাটোগ্রাফি! ওরে আল্লাহ।
পুরো সিনেমাটি সাদাকালোতে শ্যুট করা তবুও রয়েছে মেকাপের কাজ। লাইটিং এর কাজ। নিখুঁত ডিরেকশন পুরো সিনেমাতেই। আমি অনেকবার চিন্তা করছি, আসলেই এই জিনিসগুলো ক্রিয়েট করা নাকি হুট করে ক্যামেরা বন্দি করা। এত বাস্তব , এত বাস্তব! অবিশ্বাস্য!
.
এই হলো মেকিং এর দিক থেকে। আর ফিলসফিকাল এসপেক্টস তো অসীম সেটের মত। সেই সাথে ভ্যান গগ এর পেইন্টিং এর ব্যালান্স রাখা যেন আরো "চেরি অন দা টপ"
এর মত মজা দেয়। ইতালির মাইগ্রেশন মেন্টালিটিকে একদম সহজেই টাচ করে গিয়েছে "চলো , আমাদের সাথে আমেরিকা
চলো" লাইন দিয়ে। Industrial Revolution এর সময় ইতালি যখন Mass Production, Highly Economic growth, Electrical Grid এইসব স্থাপনে ব্যস্ত তখন এক নাম না জানা গ্রামে বাবা আর কন্যার আলু সেদ্ধ খাওয়া, একটা ল্যাম্প জ্বালিয়ে বেঁচে থাকা- যেন মেসেজ দিচ্ছে অজস্র অব্যক্ত ব্যথার, বেঁচে থাকার অদম্য চেষ্টার।
.
নিয়ম ভাঙার মত মজা পৃথিবীতে আর কিছু হতে পারে না। যারা নিয়ম ভাঙে তারা জানে জীবন কি, শিল্প কি। নিয়ম ভাঙার নামই হল শিল্প। Bela Tarr এর The Turin Horse এই শতাব্দীর সবচেয়ে আন্ডাররেটেড শিল্প।



No comments