ক্লাস টেন

 আমার বইয়ের তাকে জমছে ধুলো,

পথ হারাচ্ছে শব্দগুলো।

নাড়লে কড়া দরজা খুলো।

.

.

ক্লাস টেনে পড়ার সময়কার কথা।

.

 শুভ আর সাঈদ, তোরা দুজন  আমার বাসার সামনে আসতি। বিভোর আসতো।  তারপর চারজন  সাইকেল নিয়ে চলে যাইতাম পুরাতন পঞ্চগড়ে। সেইখানে ফয়সাল, দীপ, হাবিব, আরিফ রায়হান, আর রিংকু এরা সবাই মিলে চলে যেতাম মিরগড়ে । 

যাওয়ার এই পথটা কোনদিন ভুলবার মত না। 

.

দু পাশে খেত।

কিছুদুর এগিয়ে কবরস্থান।

 আকাশে চাদ।

জনবিহীন পাকা  রাস্তা।

আকাবাকা কয়েকটা মোড়।

লম্বা রাস্তা টার দুইপাশ দিয়েই গাছ।

তারপর ছোট্ট বাজার টা।  

 আর আমাদের সবার গলায় অনুপমের সেই গান। 

.

এই শ্রাবণ ভিজিয়ে দিক।

এখন অনেক রাত।

বিজলি বাতি।

বেচে থাকার গান।

ফিরিয়ে দেওয়ার গান।

আর জলফড়িং। 

.

 সবাই মিলে সেই একসাথে কত গান।  মিড়গড়ে গিয়েই আগে বাধনকে ফোন। বাধন না থাকলে মিড়গড় জমে উঠে না।  পরোটা, চা খেয়ে সেই নদীর ধারে বর্ডার। 

.

মাঝে নদী।

 ওপারে ইন্ডিয়া।

সোডিয়াম লাইট। 

এপারে আমরা। 

.

সাইকেল গুলো নদীর ধারে রেখে, সবাই মিলে কত কথা।  কথার উপর কেবল কথা। কত আবোল তাবোল জিনিস নিয়ে আড্ডা মারতাম। প্রথমদিকে  বিডিআর  আমাদেরকে চলে যেতে বলতো। ঠিক তখন, বাধন নিজের পরিচয় দিতে একদমি ভুল করতো না। কয়েকদিন পরে , বিডিআর আমাদেরকে চলে যেতে বলতো না, বলতো আস্তে কথা বলেন। 

.

এভাবেই দেখতে দেখতে এসএসসি পাস করে, এইচ এস সির জন্য ঢাকায় আসা, তারপর সেকেন্ড টাইম করে এখন যান্ত্রিক জীবনে প্রবেশ করেছি। এখনো বাসায় গেলে মিড়গড়ে যাওয়া হয়। এইবারো গেছিলাম। বাধন ছিলো না। বর্ডারে যাওয়া হয় না। এখন পরোটার দোকানে বসলে এনাটমির আলাপ হয়,  গল্প হয় ফোটন কণার, কথা হয় জগতের কত মুভি নিয়ে, কত নিত্যনতুন আলাপ।   এখন বন্ধুরা অনেক বড়লোক হয়ে গেছি। মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া হয়। গলা ফাটিয়ে গান গাওয়ার আগেই মোটরসাইকেল তার স্বভাব দেখিয়ে দেয়। আমি আজো সেই গান গুলো শুনি। পুরোনো দিন গুলো মনে করার চেয়ে ভুলে যাওয়া বেশি কস্টকর। আমি ভুলতে পারতিছি না, নিজের ফেলে আসা অস্তিত্বককে। আজো বেচে থাকার গান শুনি, বেচে থাকতে শিখি কিন্তু ফিরিয়ে দেওয়ার গানটা আর ফিরিয়ে দেয় না সেই সময়।

No comments

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.